নিজস্ব সংবাদদাতা: রাই-অনির্বাণের কোলে এসেছে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। বিপদ পেরিয়ে অবশেষে খুশির আলো তাদের সংসারে। কিন্তু এই সুখ কতদিন টিকবে? ফের নতুন বিপদের আঁচ রাই-অনির্বাণের মাঝে। আবারও কি ভুল বোঝাবুঝির শুরু? জানতে আজকাল ডট ইন পৌঁছে গিয়েছিল মুভিটোন স্টুডিওতে, জি বাংলার ধারাবাহিক 'মিঠিঝোরা'র শুটিং ফ্লোরে।
ফ্লোরে এল নতুন সদস্য
ফ্লোরে ঢুকতেই যেন অন্য মেজাজ। এত থমথমে পরিবেশের মাঝেও যেন আনন্দের ধারা বইছে! মধ্যমণি একজন। রাইয়ের একরত্তি। সেটে সবার কোলে হাসিমুখে ঘুরছে সে। কান্নার টু শব্দটি নেই। গল্পে রাই-অনির্বাণের ছোট্ট মেয়ের ভূমিকায় কিয়ানা মুখোপাধ্যায়। এইটুকু বয়সেই লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের সঙ্গে বেশ মানিয়ে নিয়েছে সে। সিন শেষ করে পর্দার বাবা 'অনির্বাণ' ওরফে সুমন দের কোলে চেপে ফ্লোরের বাইরে বেরলো কিয়ানা। একটানা ১৫ মিনিট সিন করে সে ক্লান্ত। তাই এখন বিশ্রামের পালা। অন্যদিকে, নতুন মা 'রাই' ওরফে আরাত্রিকা মাইতি মেয়েকে কোলে নেওয়ার জন্য ছটফট করছেন। আসলে সেটের পরিবেশটাই বদলে গিয়েছে একরত্তির উপস্থিতিতে।
লাইট চেঞ্জ হচ্ছে পরবর্তী দৃশ্যের জন্য। তাই একটু বিরতিতে আড্ডা জমল সুমন-আরাত্রিকার সঙ্গে। মেয়েকে নিয়ে কেমন সময় কাটছে? আরাত্রিকার জবাব, "ও তো সবার অ্যাটেনশন নিয়ে নিয়েছে এই ক'দিনেই। জানতাম একটা বাচ্চা আসবে সেটে। কিন্তু ওকে দেখে তো পরী মনে হয়।" সুমন বলেন, "প্রথমদিন ওকে দেখে অবাক হয়ে যাই। এত মিষ্টি আর শান্ত বাচ্চা! সেটের গরমে একটু কষ্ট হয় বোধহয় ওর। কিন্তু আমরা চেষ্টা করি, ওকে যত্নে রাখতে।" এবার তো মেয়েকে সামলানোর দায়িত্ব পড়বে, ভয় করছে? একটু হেসে আরাত্রিকা বলেন, "আগের ধারাবাহিকে ছেলে, মেয়ে দু'জনকেই সামলানোর অভিজ্ঞতা হয়ে গিয়েছে। এমনই আমি বাচ্চা খুব ভালবাসি, তাই অসুবিধা হবে না।" আরাত্রিকার কথা শেষ হতেই সুমন বলেন, "আমার অভ্যাস নেই। তবে এবার মনে হচ্ছে হয়ে যাবে।"
থমকে গেলেন নায়ক-নায়িকা
প্রায় দেড় বছর চলছে এই মেগা। একে অপরের মধ্যে কোনও পরিবর্তন চোখে পড়ল? প্রশ্ন শুনে প্রায় এক মিনিট নিরবতা পালন করলেন দু'জন। হঠাৎ কী হল? এরকম থমকে যাওয়ার কী মানে? জিজ্ঞাসা করতেই দু'জনেই জোরে হেসে উঠলেন। হাসতে হাসতেই সুমন বলেন, "সময় পাইনি সত্যিই এত লক্ষ্য করার। রাগ, অভিমান, মারামারি, হাসি-মজার মধ্যে দিয়েই দিনগুলো কেটেছে। এর থেকে বেশি গভীরে ভাবতে গেলে বিষয়টা অন্যদিকে যাবে।" সুমনের কথায় হেসে ওঠেন আরাত্রিকা। 'রাই' বা 'অনির্বাণ'-এর কাছ থেকে কিছু শিখেছেন? সুমন বলেন, "যে অভিমান পর্ব মেটানোর দায়িত্ব অনির্বাণ নেয়, সেটা বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারি না, কারণ আমি অবিবাহিত।" নায়কের জবাব শুনে হেসে লুটোপুটি আরাত্রিকা। হাসি থামিয়ে বলেন, "হ্যাঁ, রাইয়ের কাছ থেকে অনেককিছু শিখেছি। সহ্য ক্ষমতা, কথার দাম দেওয়া অনেককিছুই বাস্তবে কাজেও লাগিয়েছি।"
লাইট চেঞ্জ শেষ, সেট তৈরি। ডাক এল ফ্লোর থেকে। আড্ডা থামিয়ে তাই শুরু হল পরবর্তী দৃশ্যের প্রস্তুতি।
















